চালু হচ্ছে ই-টেন্ডারিং ডাটা সেন্টার

আইটি লাইফ ডেস্ক: বাংলাদেশে সরকারি সব কেনাকাটায় (দরপত্র) ই-টেন্ডারিং চালু করতে কেনা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতার ডাটা সেন্টার। এটি কিনতে অতিরিক্ত অর্থায়নে হিসেবে ১ কোটি মার্কিন ডলার (স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা) ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। এ জন্য সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান রাজেশ্বরী এস পারালকার। এসময় সেন্টাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।e-tender

চুক্তি শেষে কাজী শফিকুল আযম বলেন, টাকার অঙ্কে কম হলেও বিশ্বব্যাংকের এ সহায়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঋণের অর্থ ব্যবহার করে ডাটা সেন্টার কেনার মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। ইলেকট্রনিক্স গভার্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) কার্যক্রম স্বয়ংসম্পূতা পাবে। অর্থাৎ সরকারি সব দপ্তর ইজিপির আওতায় আসবে। রাজেশ্বরী পারালকার বলেন, বাংলাদেশ ইজিপির ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ই-জিপি বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে। তিনি জানান, ২০০ টেরাবাইটের উচ্চ ক্ষমতার ডাটা সেন্টার কেনা হলে সরকারি ক্রয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

অতিরিক্ত অর্থায়ন বর্তমান প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইত্যাদিকে সহায়তা করবে যার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা কর্মচারী তৈরি হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২ (পিপিআর-২) এর আওতায় একটি নতুন স্টেট অব-দ্য-আর্ট ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। এটির ধারণক্ষমতা হবে ২০০ টেরাবাইট। এছাড়াও একটি মিরর সাইট ডাটা সেন্টার স্থাপিত হবে। মিরর সাইটটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিক উন্নত হবে। বর্তমান ডাটা সেন্টারের চেয়ে ১৮০ গুণ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে নতুন ডাটা সেন্টার। যেখানে প্রায় ৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন টেন্ডার সংরক্ষণ করা যাবে এবং ৩ লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত দরদাতার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। বিশ্বব্যাংকের এ ঋণের সুদ হার হচ্ছে শতকরা শূন্য দশমিক ৭৫ ভাগ এবং ৬ বৎসর গ্রেস প্রিরিয়ডসহ ৩৮ বৎসরে পরিশোধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২ জুন এ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প হাতে নেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে সরকারি চারটি সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে এর আওতায় আনা হয়। এ প্রকল্পের ফলে সরকারি ক্রয় স্বচ্ছতা এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি যেমন টেন্ডার প্রক্রিয়াকরণের সময় ২০১২ সালের ৫১ দিন হতে ২০১৫ সালে ২৯ দিনে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সফলতার পরই দেশের সব সরকারি অফিসকে ই-টেন্ডারিংয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক ই-টেন্ডারিংয়ের শুরু থেকে গত ২৭ জুন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ২২ হাজার ৩৬ জন ঠিকাদার যুক্ত হয়েছেন। নিবন্ধিত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১টি। ই-পেমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১টি ব্যাংক রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ২০০-এর বেশি শাখা ই-টেন্ডারিংয়ের জন্য ই-পেমেন্ট কাজ পরিচালনা করছে। ১৫ জুন পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেমে ৫৬ হাজার ৯০৯টি দরপত্র আহব্বান করা হয়েছে। তাছাড়া নিবন্ধিত উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে অন্যতম বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আর্ন্তজাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইউনিসেফ, চীন এবং নেদারল্যান্ড।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Notify of
avatar
300

wpDiscuz